বসিরহাটের বনেদি বাড়ির পুজো: কিছু জনশ্রুতি, কিছু প্রথা

অতনু বসু

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্ত শহর বসিরহাট। এই অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কিছু বিখ্যাত বনেদি বাড়ির পুজো। কোনওটি বয়সে প্রাচীন কোনওটি আবার একেবারেই নবীন। তাদের আছে নিজস্ব কিছু প্রথা। আবার কোনও কোনও পুজো ঘিরে আছে জনশ্রুতি।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরে ৫০০ বছরের অধিক পুরনো চাঁদুনি বড়ির পুজো

বসু বাড়ির প্রতিমা

বসিরহাটের বনেদি বাড়ির পুজো বলতে প্রথম যে পুজোর কথা বলতে হয়, তা হল— দন্ডিরহাট বসু বাড়ির পুজো, যা ডাক্তার বাড়ির পুজো নামেও পরিচিত। এই পুজোর বয়স আনুমানিক ৪০০ বছর। এই পুজোর বিশেষত্ব হল এখানকার প্রতিমা। মা এখানে একচালায় সপরিবারে আসীন। কিন্তু মায়ের দশ হাতের মধ্যে আটটি ছোট আর দু’টি বড়। কথিত আছে, কোনও এক বছর প্রতিমা নির্মাণের সময় একঝাঁক পায়রা মায়ের হাতে বসায় মায়ের আট হাত ভেঙে যায়। তখন মা স্বপ্নাদেশ দেন ওই মূর্তিতেই পুজো হবে। তারপর থেকেই বসু বাড়িতে মায়ের আটটা হাত ছোট, দু’টি হাত বড়। এই পুজোর বিসর্জনের ও একটি প্রথা চালু আছে। বিসর্জনের আগে মাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুসলিম বাড়ি। তারা অনুমতি দেওয়ার পর হয় বিসর্জন।

আরও পড়ুন: বৈষ্ণব এবং শাক্ত মতের সমষ্টি বাগনান কল্যাণপুরের রায়বাড়ির পুজো

বসুবাড়ির অনতিদূরে নলকোড়া করবাড়ি। এই পুজো প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো। এ বাড়ির মূর্তি তৈরি করেন কুমোরটুলির শিল্পী। তবে এবছর করোনা আবহে স্থানীয় শিল্পী দিয়ে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। এ বাড়িতে পাঁঠা বলির রীতি আছে। নবমীর দিন পাঁচটি পাঁঠা বলি হয়। এ বাড়ির কুমারী পুজো সম্পন্ন করেন বাড়ির বউরা। এ পুজো নিয়ে কথিত আছে, প্রতিমা নিয়ে পুজো কলকাতায় স্থানান্তরিত করতে গেলে প্রতিমা একচুলও নড়ানো যায়নি। তারপর থেকে এখানেই পুজো হয়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পুরস্কারজয়ী ফুলিয়ার বীরেন বসাকের বাড়ির দুর্গোৎসব বাড়ির পুজোয় থিমের ব্যবহার আনে প্রথম

নাথ বাড়ির দুর্গা

এবার আসি নাথ বাড়ির পুজোয়। এই বাড়ির বিশেষত্ব এখানকার প্রতিমা যা অন‍্য বারোয়ারি পুজোর মতন।

বিশ্বাস বাড়ির ভোগ নিবেদন

এবার আসা যাক বয়সে নবীন এক বনেদি বাড়ির পুজোয়। গোপালপুরের বিশ্বাস বাড়ি। এ পুজোর বয়স ১৫ বছর। ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় জোড়া বেলগাছের নীচে দেবীঘট স্থাপন করে পুজোর সূচনা হয়। অষ্টমীর সকালে সকল দেবদেবীকে ১০৮টি বেলপাতার মালা পরানো হয়। এ পুজোর বিশেষ প্রথা হল ভোগের আয়োজন থেকে রান্না, সবটাই বাড়ির বড়বউকেই করতে হয়। অন্য কেউ হাত লাগাতে পারে না।

পুবের বাড়ির প্রতিমা

এরপর বলি টাকি পুবের বাড়ির কথা। এটি মহিষ বলির জন্য বিখ্যাত। এই মহিষবলি দেখতে এত লোক সমাগম হত যে, ওইদিন পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা রাখতে হত। তবে এখন আর মহিষ বলি হয় না।

এছাড়াও কিছু উল্লেখযোগ্য বনেদি বাড়ির পুজো হল উপাধ্যায় বাড়ি, গায়েন বাড়ি, রায়চৌধুরী বাড়ি ইত্যাদি।

তবে এবার করোনার আক্রমণে সবকিছু ওলোট-পালট। বনেদি বাড়িগুলিও তাদের অনেক নিয়ম কাটছাঁট করেছেন। সবার মনে একটাই আকুতি, করোনাসুর বধ করে পৃথিবীতে খুশি ফিরিয়ে আনো মাগো।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: রাহুল গুহ দাস, রীতিকা বিশ্বাস, অরিন্দম নন্দী

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

  • Very nice and informative rare history of our hometown Basirhat.
    Really feeling we are enriched with historical Aristocracy which we hardly know.
    Thank you for highlighting.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *