জ্যাঙ্গো, র‍্যাম্বো আর ফুটবল

Football Cover

রাহুল দাশগুপ্ত

তাহলে টসটা হয়েই যাক। জ্যাঙ্গো বলল।

কয়েনটা উঁচুতে তুলেই লুফে নিল র‍্যাম্বো। মুখে বলল, টেল। তারপর মুঠো খুলে দেখেই বলল, আমি জিতেছি।

সোফায় বসে কথা হচ্ছিল দু’জনের। আর উল্টোদিকের ডিভানে বসে ছিল উপাসনা। সাড়ে তিন বছর বয়স। একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল ওর দুই দাদার দিকে। টুর্নামেন্ট ফুটবল শুরু হয়ে গেছে। দুই দাদাই তা নিয়ে খুব উত্তেজিত। উপাসনা অতশত বোঝে না। তবে উত্তেজনাটা বোঝে।

জ্যাঙ্গো আর র‍্যাম্বো দু’জনেই ফুটবল প্রেমিক। জ্যাঙ্গোর বয়স পনেরো। র‍্যাম্বোর চৌদ্দ। আর দুজনেই ফুটবলের ওপর প্রচুর পড়াশুনো করেছে।

র‍্যাম্বো বলল, সর্বকালের সেরা ফুটবল টিম? ঠিক আছে, শুরু করা যাক।

জ্যাঙ্গো হতাশভাবে বলল, মনে হচ্ছে সেরা প্লেয়ারগুলোকে তুই-ই নিয়ে নিবি! ঠিক আছে, যা থাকবে তার মধ্যে থেকেই বেছে নেব। দেখবি, টিম করা কাকে বলে!

র‍্যাম্বো বলল, আমার টিম ৩-৫-২ ছকে খেলবে।

মানে রেনাস মিশেলসের টোটাল ফুটবল? ১৯৭৪ সালের স্বপ্নের হল্যান্ড টিম?

হ্যাঁ। আমার ওরকম খেলাই ভালো লাগে। কারও কোনও নির্দিষ্ট পজিশন নেই, প্রত্যেকের পজিশন পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক হচ্ছে। আগ্রাসী, আক্রমণাত্মক।

আমারও। ওখানেই তো ফুটবলের রোমান্টিজম! ডিফেন্সটা শক্তপোক্ত রেখে শুধু আক্রমণ শানিয়ে যাও। তাহলে তোর টিমটা কী হল?

র‍্যাম্বো একবার উপাসনার দিকে তাকাল। দাদাদের ব্যাপার-স্যাপারে তাকে বেশ কৌতুহলীই দেখাচ্ছে! র‍্যাম্বো শুরু করল, গোলে লেভ ইয়াসিন। রাশিয়ার। দেশের হয়ে ৭৮ বার খেলেছেন। ১৫০টা পেনাল্টি সেভ করেছেন।

আরও পড়ুন: অভিন্ন হৃদয় বন্ধু: অ্যাশ, ব্রক, মিস্টি এবং পোকেমন

আমি জানতাম, তুই লেভ ইয়াসিনকেই নিবি। এবার ডিফেন্স?

ডানদিকে থাকবে কাফু। দেশের হয়ে ১৪২টা ম্যাচে ৫টি গোল করেছে কাফু। বাঁ-দিকে ফ্রাঙ্কো বারেসি। আর মাঝখানে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ১০৩টি ম্যাচে ১৪টি গোল। কাফু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুলব্যাক। বারেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। জীবনের শুরুতে ফুল ব্যাক হিসাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৮১টা ম্যাচে ১টা গোল করেছেন। আর বেকেনবাওয়ারের কথা আর কী বলব!

সর্বকালের সেরাদের একজন। চমৎকার। মুখে এতক্ষণে হাসি ফুটেছে জ্যাঙ্গোর। তোর সঙ্গে আমি অবশ্য পুরোপুরি একমত নই। সময় হলেই দেখতে পাবি, কেন। ঠিক আছে, এবার বল, তোর পাঁচজন মিডফিল্ডার কে কে…

বলছি। এই পাঁচজন হল, আলফ্রেদো দিস্তেফানো, দিয়েগো মারাদোনা, জোহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি এবং জিনেদিন জিদান। দিস্তেফানো ৪১টি ম্যাচে ২৯টি গোল করেছেন। কিন্তু এ দিয়ে কিছুই বোঝানো হয় না। ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর চেয়ে কমপ্লিট প্লেয়ার আর জন্মায়নি। মারাদোনা ৯১টি ম্যাচে ৩৪টি গোল করেছেন। ক্রুইফের ৪৮টা ম্যাচে ৩৩টি গোল। সর্বকালের সেরা দুই ড্রিবলার এবং ম্যাচ উইনার। একজন একার হাতে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। অন্যজন প্রথম দুনিয়াকে দেখিয়েছেন ‘টোটাল ফুটবল’ কাকে বলে! ফরাসি তথা ইউরোপীয় ফুটবলের রাজপুত্র মিশেল প্লাতিনি। একার হাতে ফ্রান্সকে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। ৭২টা ম্যাচে ৪১টা গোল করছেন। আর বাকি রইলেন, জিদান। এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ১০৮টা ম্যাচে ৩১টা গোল। আমার যুক্তিগুলো কি ঠিক আছে?

হ্যাঁ, এটা ওদের মধ্যে কথা হয়েছিল বটে। টিম করবে কিন্তু কেন কোন খেলোয়াড়কে দলে নিচ্ছে, যুক্তি সাজিয়ে সেটা বলে দিতে হবে।

জ্যাঙ্গো বলল, ঠিক আছে, এবার ফরওয়ার্ড লাইন কী হবে বল…

পেলে আর মেসি। আমার টিমে এই দু’জনই সামনে থাকবে। একজন সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অন্যজন বর্তমান প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। প্রথমজন ৯২টি ম্যাচে ৭৭টি গোল করেছেন। মেসি ১৪৩টা ম্যাচে ৭২টা গোল করছেন। দু’জনেই জাত শিল্পী এবং ফুটবল খেলা যে কত সুন্দর হতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

কাউকে তো আর বাকি রাখলি না! জ্যাঙ্গো বলল। বেশ, তোর টিমটা তাহলে কী দাঁড়াল?

আরও পড়ুন: ৪৭ বছর পরেও গাভাস্করের মনে অম্লান মাঠের মধ্যে চুল কাটার স্মৃতি

তাহলে শোন। র‍্যাম্বো বলল। ইয়াসিন, কাফু, বেকেনবাওয়ার, বারেসি, দিস্তেফানো, ক্রুইফ, মারাদোনা, প্লাতিনি, জিদান, পেলে, মেসি।

অবশ্য তুই যখন টিমটা করছিলি, জ্যাঙ্গো বলল, তখনই আমি অনেকটা ভেবে রেখেছি। আমার টিমটাও কিছু কম যাবে না। আমিও খেলব, ৩-৫-২ ছকে।

জ্যাঙ্গো একবার উপাসনার দিকে তাকাল। সে তখন হাই তুলছে। আর অস্ফুটস্বরে বলছে, মেসি, মেসি।

তোর টিমটা এবার। র‍্যাম্বো একটু অধৈর্য।

ঠিক আছে। গোলে গর্ডন ব্যাঙ্কস। দেশের হয়ে ৭৩টা ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ইয়াসিন ছাড়া ওই দক্ষতার কোনও গোলকিপার দুনিয়ায় আসেনি।

আমি ঠিকই অনুমান করেছিলাম! আর ডিফেন্সে? কোন তিনজন?

কার্লোস অ্যালবার্তো, ববি মুর, রবার্তো কার্লোস। ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের যে স্বপ্নের দলটা বিশ্বকাপ জেতে, তার একটা স্তম্ভ ছিলেন অ্যালবার্তো। ফাইনালে একটা গোলও দেন। ৫৩টি ম্যাচে ৮টি গোল করেন অ্যালবার্তো। ববি মুরকে বলা হয়, সর্বকালের সেরা সেন্টার ব্যাক। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ১০৮টা ম্যাচ খেলে ২টি গোল করেছেন। রবার্তো কার্লোসকে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টা ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন।

আর মিডফিল্ডে? কোন পাঁচজন? আমার পছন্দের পাঁচ হল জিকো, গ্যারিঞ্চা, রবার্তো বাজ্জো, জর্জ বেস্ট এবং রোনাল্ডিনহো। গ্যারিঞ্চা চিরকালের সেরা রাইট উইঙ্গার। পেলের প্রায় সমকক্ষ। ৫০টি ম্যাচে ১২টি গোল। তিনি মাঝমাঠে ডানদিকে খেলবেন। আর রোনাল্ডিনহো জিদান আর মেসির মাঝের সময়ে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ৯৭টি ম্যাচে ৩৩টি গোল। পেলে আর গ্যারিঞ্চা ছাড়া ব্রাজিলের ফুটবলে জিকোর সঙ্গে তুলনীয় আর কে-ই বা আছেন? ৭১টি ম্যাচে ৪৮টি গোল দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এত সৌন্দর্য খুব কম প্লেয়ারের খেলাতেই আছে। বেস্ট আর বাজ্জো, দু’জনেই দুর্দান্ত ড্রিবলার। দু’জনের কেউ-ই নিজেদের অতুলনীয় প্রতিভার সঠিক ব্যবহার করতে পারেননি। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে তাঁদের স্থান পাকা হয়ে আছে। দেশের হয়ে ৩৭টি ম্যাচে ৯টি গোল দিয়েছেন বেস্ট। শোনা যায়, পেলেকেও একসময় ম্লান মনে হয়েছিল বেস্টের প্রতিভার কাছে। আর রবার্তো বাজ্জো ৫৬টি ম্যাচে ২৭টি গোল করেছেন। তাঁর খেলা তো এখনও চোখে লেগে আছে। জিকো আর মারাদোনা যেন মিলেমিশে গেছে বাজ্জোর মধ্যে।

খেলাটা দারুণ জমবে বলেই মনে হচ্ছে। র‍্যাম্বো বলে। তারপর যোগ করে, আর ফরওয়ার্ডে?

আমার দু’জন স্ট্রাইকার। পুসকাস আর রোনাল্ডো। পুসকাস ইউরোপের চিরশ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার। ৮৪টি গোল ৮৯টি ম্যাচে। আর রোনাল্ডো ৯৮টি ম্যাচে গোল করেছেন ৬২টি। এরপর আর কী বলার থাকতে পারে এই দু’জনকে নিয়ে? রোনাল্ডো তো দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার ছিলেন।

র‍্যাম্বো বলল, তাহলে তোর টিম সব মিলিয়ে কী দাঁড়াল?

আরও পড়ুন: মনোহর আইচ: পান্তা ভাতের জল, তিন জোয়ানের বল

জ্যাঙ্গো বলল, ব্যাঙ্কস, কার্লোস অ্যালবার্তো, ববি মুর, রবার্তো কার্লোস, জিকো, গ্যারিঞ্চা, বাজ্জো, বেস্ট, রোনাল্ডিনহো, পুসকাস আর রোনাল্ডো।

র‍্যাম্বো বলল, খেলাটা দারুণ জমবে! জ্যাঙ্গো বলল, আচ্ছা, তোর দলের ক্যাপ্টেন কে হবে?

কেন? র‍্যাম্বো বলল, অবশ্যই বেকেনবাওয়ার। অত ঠান্ডা মাথা। আর তোর দলের?

ববি মুর। এরকম ক্যাপ্টেন খুব কম পাওয়া যায়। জ্যাঙ্গো বলে।

আর কোচ? জানতে চায় র‍্যাম্বো।

কেন, মারিও জাগালো। জ্যাঙ্গো বলে।

আমার টিমের কোচ হবে, রেনাস মিশেলস। টোটাল ফুটবলের জনক। র‍্যাম্বো একটু ভেবে জবাব দেয়।

জ্যাঙ্গো বলে, অনেক বড় বড় প্লেয়ার কিন্তু বাদ চলে গেল। র‍্যাম্বো বলল, বেশ তো। তাহলে থার্ড একটা টিম করা যাক…

তুই বল, গোলকিপার কে হবে?

দিনো জফ। ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে ১১২টা ম্যাচে খেলেছেন। ডিফেন্সে কে কে থাকবে?

ডানদিকে লিলিয়ান থুরাম। ১৪২টি ম্যাচে ২টি গোল। বাঁ-দিকে পাওলো মালদিনি। ১২৬টা ম্যাচে ৭টা গোল। থুরাম আর মালদিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ফুলব্যাক। আর মাঝখানে? ড্যানিয়েল পাসারেল্লা। ১৯৭৮ সালে প্রথমবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে। সেই দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন প্যাসারেল্লা। ৭০টি ম্যাচে ২২টি গোল। আর কোন ডিফেন্ডারের এত গোলের রেকর্ড আছে? এবার তুই বল, মিডফিল্ডে কে কে থাকবে?

বেশ। পাঁচজনকে বাছতে হবে তো? রুড গুলিত, লোথার ম্যাথিউস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ববি চার্লটন এবং ইউসেবিও। ৬৬টি ম্যাচে ১৭টি গোল দিয়েছেন গুলিত। লোথার ম্যাথিউস ১৫০টি ম্যাচে ২৩টি গোল দিয়েছেন। ফুটবলের ইতিহাসে এই দু’জনের মতো অলরাউন্ড প্লেয়ার খুব কমই এসেছে। ববি চার্লটনের খেলায় সৌন্দর্য কম, কিন্তু তিনি দারুণ পরিশ্রমি। ১৯৬৬ আর ১৯৭০, এই দু’টি বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার ছিলেন চার্লটন। ১০৬টি ম্যাচে ৪৯টি গোল দিয়েছেন তিনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবলার। জাতীয় দলের হয়ে ১৭৪টি ম্যাচে ১০৩টি গোল করেছেন। ইউসেবিও ৬৪টি ম্যাচে ৪১টি গোল করেছেন। তিনি তাঁর নিজের সময়ে দুনিয়ার সেরা স্ট্রাইকার, পেলের সঙ্গে তুলনা করা হত তাঁকে। আমরা তাঁকে একটু নিচ থেকে খেলাতে পারি।

বেশ। তাহলে স্ট্রাইকার পজিশনে আমরা কাদের নেব? তুই-ই বল।

রোমারিও আর মার্কো ফন বাস্তেন। ৫৮টা ম্যাচে ২৪টা গোল বাস্তেনের। তার মধ্যে কিছু অলৌকিক গোলও আছে! ৭০টা ম্যাচে ৫৫টি গোল রোমারিওর!

তাহলে টিমটা কী দাঁড়াল?

আরও পড়ুন: ‘পকেট হারকিউলিস’ হার মেনেছিলেন

হ্যাঁ। সেটা হল: জফ, থুরাম, পাসারেল্লা, মালদিনি, গুলিত, লোথার ম্যাথিউস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ববি চার্লটন, ইউসেবিও, রোমারিও, মার্কো ফন বাস্তেন।

ক্যাপ্টেন কে হবে রে? লোথার ম্যাথিউস।

আর কোচ?

আলেক্স ফার্গুসন। কেমন হবে?

দারুণ। টিভির দিকে তাকিয়ে থাক, আর কল্পনা কর তোর আর আমার টিম দু’টো খেলছে!

যাঃ, তা আবার হয় নাকি? ওভাবে কল্পনা করা যায়?

ঠিক আছে, আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই না হয় দেখব।

চোখ বুজে?

দ্যাখ, র‍্যাম্বো বলে, সবসময় বাস্তবে থাকতে ভালো লাগে না, কখনও কখনও মনে হয় স্বপ্নের জগতে চলে যাই। চোখ বুজে খেলা দেখার মজাই আলাদা!

ঠিক আছে, আজ তাহলে আমরা চোখ বুজেই খেলা দেখব। স্বপ্নের ভেতর যে খেলা চলে তা কেমন হয়, আমারও দেখতে খুব ইচ্ছা করছে…

আরও পড়ুন: ‘ইউরোপ সেরা’ চেলসির ইতিহাস

কিন্তু দু’টো টিম বললি কেন? আমাদের থার্ড টিমটাও কিছু কম যায় না।

নিশ্চয়ই। তবে ওটা তো আমাদের দু’জনেরই। তাই না? তা ঠিক।

সুযোগ বুঝে ওটার খেলাও দেখে নেওয়া যাবে…

হঠাৎ ওরা তাকিয়ে দেখে উপাসনার দিকে। বিছানায় শুয়ে কখন সে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তার ঠোট দু’টো একটু একটু করে কাঁপছে আর অস্ফুটে সে কী যেন বলছে। ওরা ওর ঠোঁটের কাছে কান নিয়ে গিয়ে শুনতে পেল, সে বলেই চলেছে, মেসি, মেসি…

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *